ইহুদি প্যারেন্টিং ও আমাদের অন্ধ আবেগের ব্যবচ্ছেদ
গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ মানুষ হয়েও আজ পৃথিবীকে বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে শাসন করছে ইহুদিরা। নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মোট বিজয়ীদের ২০ শতাংশেরও বেশি ইহুদি। আলবার্ট আইনস্টাইন থেকে শুরু করে আধুনিক সময়ের ল্যারি পেজ বা মার্ক জাকারবার্গ—তালিকায় এমন সব নাম যারা বিশ্বসভ্যতাকে বদলে দিয়েছেন। প্রশ্ন জাগতে পারে, ল্যাবরেটরিতে তৈরি হওয়া কোনো জাদুকরী ওষুধ কি তাদের এই মেধার উৎস?
বিশ্বের মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ জনসংখ্যা হয়েও ইহুদিরা মোট নোবেল বিজয়ীদের বিশ শতাংশের বেশি অর্জন করেছেন — এই বিলক্ষণ সাফল্যের পেছনে কী কোনো গোপন কৌশল আছেএ?
কোনো জাতিসত্তা ছাড়া আলোছায় থেকে প্রতিযোগিতা দাঁড় করাতে পারলে দাবি করা যায়, সাহস ও শৃঙ্খলা অভিযোজনের পরিশ্রমতেও সাফল্য পাওয়া যায়।
উত্তরটি লুকিয়ে আছে তাদের শৈশব গড়ার বিশেষ কৌশলে। বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল ভূ-রাজনীতি বা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে আমরা মুসলিম বিশ্ব যতটা উচ্চকণ্ঠ, নিজেদের সন্তানদের বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমরা ততটাই স্থবির। আমরা কথায় কথায় অভিযোগ করি—যুক্তরাষ্ট্র তালেবান বানিয়েছে, এটা ইহুদিদের ষড়যন্ত্র……..ব্লা ব্লা ব্লা। কিন্তু আমরা এটা ভাবি না যে, যখন আমাদের সন্তানরা ‘লেখাপড়া করে যে গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে সে’ নামের এক অলীক স্বপ্নে বিভোর, তখন একজন ইহুদি শিশু শিখছে, কীভাবে প্রতিকূল সিস্টেমের ভেতরে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে হয়।
এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরুটা হয় প্রশ্ন দিয়ে। প্রচলিত ধারণায় একজন মানুষ কতটা ভালো উত্তর দিচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে সে কতটা জ্ঞানী বা মেধাবী তা নির্ণয় করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উত্তরের চেয়ে একজন মানুষের প্রশ্নের মান কতটা ভালো তার ওপর নির্ভর করে তার জ্ঞানের দৌড় কতটা। জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় কারিগর ছিলেন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস। তিনি বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের একমাত্র পথ হলো প্রশ্ন করা। সক্রেটিস নিজে কোনো উত্তর দিতেন না, বরং মানুষের বিশ্বাসের মূলে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তাদের ভাবাতেন এবং সত্য বের করে আনতেন। যাকে দর্শনের ভাষায় ‘সক্রেটিক মেথড’ বলা হয়।
ইহুদি প্যারেন্টিং ঠিক এই ‘সক্রেটিক’ দর্শনেই বিশ্বাসী। তারা মনে করে, তৈরি করা উত্তর শিশুকে অলস করে দেয়, আর প্রশ্ন শিশুকে অনুসন্ধানী করে তোলে।
ইহুদি ঐতিহ্যে সেই শিশুকেই সবচেয়ে মেধাবী মনে করা হয় যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় মার্জোরি ইনগালের কথা। এই প্রখ্যাত ইহুদি নারী সাংবাদিকের রচিত ‘মামালেহ নোজ বেস্ট’ (মা-ই সবচেয়ে ভালো জানেন) বইটি বর্তমানে একটি আধুনিক প্যারেন্টিং গাইড হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। এই বইটিতে তিনি ইহুদি শিশুদের অনন্য সাফল্যের পেছনে থাকা পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাগুলো নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
আমাদের দেশে সন্তান যখন আকাশ দেখে জিজ্ঞেস করে, ‘বাবা, আকাশ কেন নীল?’ আমরা তখন হয়তো চট করে উইকিপিডিয়া বা গুগলের জ্ঞান দিয়ে তাকে বলে দিই: সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর গ্যাসীয় অণু দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়। নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় এটি সবচেয়ে বেশি বিচ্ছুরিত হয় বলেই আকাশ নীল দেখায়। আমরা ভাবি, সঠিক উত্তরটি দিয়ে শিশুকে বিরাট শিক্ষা দিয়ে ফেললাম। কিন্তু আসলে এ তথ্যটুকু কোনো অর্থই বহন করে না। একজন ইহুদি বাবা বা মা এখানে উল্টো কৌশল নেন। তিনি উত্তর না দিয়ে শিশুকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘তোমার কী মনে হয় আকাশ কেন নীল?’ এই একটি পাল্টা প্রশ্ন শিশুর মস্তিষ্কের হাজারটা নিউরনকে সচল করে দেয়। সে ভাবতে শুরু করে, কল্পনা করে এবং নিজের মতো একটি যুক্তি দাঁড় করায়। ‘হয়তো সাগরের নীল রং উপরে প্রতিফলিত হচ্ছে তাই,’ ‘হয়তো নীল ঈশ্বরের প্রিয় রঙ, তাই তিনি আকাশকে নীল করেছে’, ‘হয়তো নীল রঙ খুব শান্ত, আর আকাশকে শান্ত থাকা প্রয়োজন তাই। হয়তো…..’
প্রতিটি উত্তরই ভুল, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। আসল বিষয় হলো তার মস্তিষ্ক কাজ করছে। সে নতুন নতুন অনুমান (হাইপোথিসিস) তৈরি করছে এবং সম্ভাবনাগুলো নিয়ে চিন্তা করছে।
অর্থাৎ, ইহুদি অভিভাবকরা তৈরি থাকা উত্তর বলে দিয়ে শিশুদের চিন্তার পথ বন্ধ করতে চান না। তারা চান বাচ্চা ভুল করুক, কিন্তু নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করে যুক্তি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুক। কারণ, উত্তর মুখস্থ করার চেয়ে যুক্তি তৈরি করতে শেখাটা দীর্ঘমেয়াদে তাকে অনেক বেশি বুদ্ধিমান করে তোলে। অথচ আমাদের বিসিএসের মতো উচ্চতর চাকরির পরীক্ষায় ‘ঢাকা থেকে ট্রেন পথে খুলনার দূরত্ব কত?’ এমন অবান্তর, হাস্যকর ও বালখিল্য প্রশ্ন করে মেধা যাচাই করা হয়। তাও আবার নামিদামি অধ্যাপকেরা এসব প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকেন!
ইহুদি মায়েরা স্কুল থেকে ফেরা সন্তানকে জিজ্ঞেস করেন না যে, ‘আজ তুমি কী শিখলে?’ বরং জিজ্ঞেস করেন, ‘আজ তুমি শিক্ষককে চমৎকার কী প্রশ্ন করলে?’ এই অভ্যাসের কারণে ইহুদি শিশুরা তথ্যের সংগ্রাহক না হয়ে তথ্যের বিশ্লেষক হয়ে ওঠে। প্রচুর তথ্য জানার সঙ্গে বুদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই, যদি না কেউ তথ্যকে বিশ্লেষণ করে নতুন কোনো তথ্য সৃষ্টি করতে না পারে।
এই বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার পাশাপাশি ইহুদি বাবা মায়েরা সন্তানদের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি করে ছোট বেলা থেকেই। নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি বলেছিলেন, মানুষ স্বভাবতই স্বার্থপর এবং পৃথিবী একটি অত্যন্ত প্রতিকূল স্থান। ইহুদি পরিবারগুলো সন্তানদের এই সত্যটি সাত বছর বয়সেই জানিয়ে দেয়। তারা আমাদের মতো অর্থহীন নীতিকথা শেখায় না। তারা শেখায় না যে, সর্বদা সত্য কথা বলিবে, জীবন অনেক সুন্দর বা সবাই তোমাকে সমান সুযোগ দেবে। তারা সোজাসুজি বলে দেয়—জীবন সবক্ষেত্রে সমান নয় এবং এটি কখনোই সমান হবে না। কেউ জন্মগতভাবে অনেক মেধাবী হয়, আবার কাউকে অর্ধেক ফলাফলের জন্য দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়। এটি কোনো হতাশাবাদী চিন্তা নয়, এটি হলো আগামীর রণকৌশল। তারা তাদের সন্তানদের শেখায় যে, যখন তারা দেখবে কঠোর পরিশ্রম করেও প্রমোশন পাচ্ছে না, কিন্তু লবিং বা সম্পর্কের খাতিরে অন্য কেউ সেই সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে—তখন যেন তারা ভেঙে না পড়ে। কারণ তারা জানে পৃথিবী এমনই। ফলে তারা সিস্টেম নিয়ে অভিযোগ করে সময় নষ্ট করে না, বরং সিস্টেমকে কীভাবে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হয়, সেই কৌশল রপ্ত করে। ২৫ বছর বয়সে যখন আমাদের সন্তানরা সিস্টেমের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে হতাশায় ভোগে, তখন ইহুদি সন্তানরা সেই বৈষম্যপূর্ণ পৃথিবীতেই নিজেদের সম্পদ ও অবস্থান তৈরি করে ফেলে।
ইহুদিরা তাদের হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্যকে অত্যন্ত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে, যা তাদের একটি শক্তিশালী জাতীয় পরিচয় দেয়। আমাদের দেশের চিত্রটি এর ঠিক বিপরীত। বাংলাদেশে আমরা আজও ঠিক করতে পারিনি আমাদের সঠিক ইতিহাস কোনটি। এখানে প্রতি বছর বছর পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস পরিবর্তন হয়। একবার এক পক্ষ ক্ষমতায় এসে ইতিহাস একভাবে লেখে, অন্য পক্ষ এসে তা আবার বদলে দেয়। এমনকি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো মৌলিক বিষয়েও আমরা আজো দ্বিধাবিভক্ত। পহেলা বৈশাখ পালন করা ঠিক না বেঠিক, কোনটি সংস্কৃতি আর কোনটি ধর্ম—এই অর্থহীন বিতর্কেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম পার হয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজেদের শেকড় নিয়ে লজ্জিত বা সন্দিহান, যেখানে ইহুদিরা তাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সমন্বয় করে নিয়েছে। তারা তাদের সন্তানদের শেখায় যে, ঐতিহ্য হলো তোমার পরিচয়, আর জ্ঞান হলো তোমার অস্ত্র। আমরা যখন নিজেদের পরিচয় সংকটে ভুগে অন্যের সংস্কৃতি বা মতবাদ নিয়ে পড়ে থাকি, তারা তখন তাদের ঐতিহ্যের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বিশ্ব জয় করে।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ মা ‘হেলিকপ্টার প্যারেন্টিং’-এ অভ্যস্ত। আমরা সন্তানের মাথার ওপর সারাক্ষণ ডানা ঝাপটাই যেন তাকে কোনো বিপদ স্পর্শ না করে। কিন্তু ‘মামালেহ’ বা আদর্শ ইহুদি মা জানেন- কখন সন্তানের পেছন থেকে সরে যেতে হবে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক—তেল আভিভের কোনো পার্কে যখন কোনো শিশু হাঁটতে হোঁচট খায়, হাঁটু ছিলে ফেলে, তখন তার মা দৌড়ে গিয়ে তাকে কোলে তুলে নেন না। তিনি দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেন। শিশুটি যদি কাঁদতে কাঁদতে মায়ের দিকে তাকায়, মা তাকে ইশারায় উঠে দাঁড়াতে বলেন। এই নির্লিপ্ততা নিষ্ঠুরতা নয়, এটি হলো ‘প্রাকৃতিক পরিণতি’ বোঝার শিক্ষা। মা জানেন, আজ যদি তিনি ওকে টেনে তোলেন, তবে ও কাল বড় কোনো বিপদে কারো সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করবে। ব্যথার মাধ্যমেই সে শিখবে ভারসাম্য বজায় রাখা। যদি কোনো সন্তান বাইরে যাওয়ার সময় তার জ্যাকেট নিতে ভুলে যায়, তবে তাকে বাইরের ঠাণ্ডা অনুভব করতে দেওয়া হয় (যদি না তা খুব বিপজ্জনক না হয়)। মা যদি বারবার মনে করিয়ে দেন বা নিজেই জ্যাকেট নিয়ে পেছনে ছোটেন, তবে সন্তান কখনো নিজের দায়িত্ব নিতে শিখবে না। ভুল করা এবং তার ফলাফল ভোগ করা থেকেই আসল শৃঙ্খলা আসে।
এই শৃঙ্খলার সাথে যুক্ত হয় বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ। মুসলিম বিশ্ব যখন সংগীত ‘হালাল না হারাম’—এই অন্তহীন বিতর্কে সীমাবদ্ধ তখন ইহুদিরা সংগীতকে ব্যবহার করছে মস্তিষ্কের বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে। হার্ভার্ড বা এমআইটির গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে বাদ্যযন্ত্র (বিশেষ করে পিয়ানো) শেখার ফলে মস্তিষ্কের যৌক্তিক ও গাণিতিক অংশ বহুগুণ শাণিত হয়। ইহুদি শিশুরা ছোটবেলা থেকেই পিয়ানো বাজানো শেখে, যা তাদের মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশনকে শক্তিশালী করে। তারা তাদের শিশুকে কেবল গান শোনান না, বরং ‘লুলাবাই’ বা ঘুমপাড়ানি গানের মাধ্যমে তাদের অবচেতন মনে ভাষার গাঁথুনি এবং ঐতিহ্যের বীজ বুনে দেন। যখন তারা পিয়ানোর রিদম শিখছে, তখন আমরা সংগীতকে ‘হারাম’ মনে করে আমাদের সন্তানদের সেই বিশেষ মানসিক বিকাশ থেকে বঞ্চিত করছি। সংগীত বা শিল্পকে তারা ধর্মের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে না, বরং মেধাবিকাশের সহায়ক শক্তি হিসেবে দেখে।
আর্থিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও ইহুদিরা অতুলনীয়। ডিনার টেবিলে তারা বাজেট এবং খরচ নিয়ে সন্তানদের সাথে সরাসরি আলোচনা করে। শিশুদের সামনে আর্থিক বিষয়গুলো লুকিয়ে রাখার বদলে তাদের বোঝানো হয় যে, টাকা একটি সীমিত সম্পদ এবং এটি খরচ করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হয়। তারা সন্তানদের ছোট ছোট কাজের বিনিময়ে ‘অ্যালাউন্স’ বা হাতখরচ দেয়, শিশুদের বোঝায় যে পরিশ্রমের মাধ্যমেই অর্থ অর্জিত হয়। টাকা নিয়ে তাদের দর্শনটি অত্যন্ত স্বচ্ছ—টাকা আপনাকে সুখী করতে পারবে না সত্য, কিন্তু এটি আপনাকে স্বাধীন করতে পারে, আর সেই স্বাধীনতা ব্যবহার করে আপনি অন্যের উপকার করতে পারেন। এখান থেকেই জন্ম নেয় তাদের পরোপকারের মানসিকতা। তারা বড় হয়ে কেবল নিজেদের ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ায় না, বরং নিজেদের সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করে। তাই ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই ইহুদি জাতীয়তা অত্যন্ত শক্তিশালী।
ইহুদি প্যারেন্টিং দর্শনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আত্ম-শাসন (Self-Discipline)। শাসনের উদ্দেশ্য শিশুকে ভয় দেখানো নয়, বরং তার ভেতর এমন এক নৈতিক বোধ তৈরি করা যাতে সে নিজেই নিজের পরিচালক হতে পারে। যে শিশু ছোটবেলা থেকেই নিজের কাজের দায়ভার নিতে শেখে, সে ভবিষ্যতে পৃথিবীর বড় বড় দায়িত্ব নিতে ভয় পায় না। ভালোবাসার ক্ষেত্রে তাদের সংজ্ঞাটিও আমাদের চেয়ে ভিন্ন। আমরা মনে করি সন্তানকে সারাজীবন আগলে রাখাই ভালোবাসা। কিন্তু ইহুদি প্যারেন্টিং বলে—আপনার ভালোবাসার গভীরতা মাপা হয় আপনি তাকে কতটা শক্ত করে নিজের কাছে ধরে রেখেছেন তা দিয়ে নয়, বরং আপনি তাকে কতটা আত্মবিশ্বাসের সাথে পৃথিবীর প্রতিকূলতার মাঝে ছেড়ে দিতে পারছেন তা দিয়ে। ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পেছনে না ছুটে এবং ইতিহাসের পাতায় কাটাকাটি না করে আমাদের উচিত সন্তানদের বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল উসকে দেওয়া এবং তাদের বাস্তববাদী হিসেবে গড়ে তোলা। কারণ পৃথিবী কেবল তাদেরই নিয়ন্ত্রণ মেনে নেয়, যারা নিজেদের ভুলের দায়ভার নিজে নেয় এবং অভিযোগ না করে সুযোগ তৈরি করতে জানে।
Comments
Post a Comment